আতা ফলের উপকারিতা | চাষের পদ্ধতি | রোগ-পোকামাকড় দমন এবং ব্যবস্থাপনা

আতা ফল - Bullock’s Heart

আতা-ফল

পরিচিতি :

আতা হল বাংলাদেশের একটি জনপ্রিয় একটি ফল ফলটির প্রতি ১০০ গ্রামে পাওয়া যায় প্রোটিন ১.৭ গ্রাম, ভিটামিন এ ৩৩ আইইউ, ভিটামিন সি ১৯২ মিলিগ্রাম, থিয়ামিন ০.১ মিলিগ্রাম, শর্করা ২৫ গ্রাম, পানি ৭২ গ্রাম, রিবোফ্লাবিন ০.১ মিলিগ্রাম, নিয়াসিয়ান ০.৫ মিলিগ্রাম, প্যানটোথেনিক অ্যাসিড ০.১ মিলিগ্রাম, ক্যালসিয়াম ৩০ মিলিগ্রাম, ম্যাগনেসিয়াম ১৮ মিলিগ্রাম, সোডিয়াম ৪ মিলিগ্রাম, ফসফরাস ২১ মিলিগ্রাম, পটাসিয়াম ৩৮২ মিলিগ্রাম, আয়রন ০.৭ মিলিগ্রাম আমাদের শরীরকে সুস্থ রাখতে খুব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে গুণে ভরা এই আতাফল

উপকারিতা :

  • আতা দৃষ্টি শক্তি বৃদ্ধি করে
  • এই ফল হজম শক্তি বৃদ্ধি করে
  • চুল ও ত্বকের যত্নে আতা ফল খুব কার্যকরী
  • এই ফল খেলে আমাশয় ভাল হয়
  • এই ফল হাড়কে মজবুত করে
  • মাঠাড় উকুন দূর করে
  • দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়

জলবায়ু মাটিঃ

  • অম্লীয় মাটি খুব ভাল
  • জলাবদ্ধতা ঠাণ্ডা সহ্য করতে না
  • আতা গাছ গরম শুকনো আবহাওয়া পছন্দ করে

চারা তৈরি রোপণঃ

  • বীজ থেকে চারা তৈরি করা হয় অঙ্গজ উপায়ে প্রজনন করা যায়
  • জুনজুলাই মাসে চারা লাগানোর উপযুক্ত সময়
  • বছরের চারার উপর জর কলম ১০০% সফল হয়
  • পার্শ্বকলম, গুটি কলম চোখ কলম করে করা যায়
  • জমি মই দিয়ে চাষ করার পর / মি দূরে ৪০ সে মি গর্ত করে পচা জৈব সার ছাই দিয়ে বর্ষার পূর্বে গাছ লাগাতে হবে

সার প্রয়োগ পরিচর্যাঃ

  • বর্ষার মাঝামাঝিতে প্রতিটি গাছে ২০০ গ্রাম রেড়ির খৈল ১০০ গ্রাম হাড়ের গুড়া প্রয়োগ করতে হবে
  • বর্ষা আসার পর প্রতিটি গাছে ৬০ গ্রাম নাইট্রোজেন সার, ১০০ গ্রাম পটাশ ফসফরাস সার দিতে হবে
  • আতা পত্রমোচি গাছ তাই ডালপালা কেতে দিলে ফলন ভাল হয়

ফসল সংগ্রহ ফলনঃ

  • ফল পাকতে / মাস সময় লাগে
  • ফলের বর্ণ উজ্জল হয়, ফিকে হলদে আভা দেখা যায় এবং চোখগুলো পুষ্ট হয়
  • ফল / দিন পরই পেকে যায় প্রতিটি গাছ ১০০-১৫০ টি ফল দেয়

রোগবালাই দমন

নাম

ফলের দাগ রোগ

লক্ষণ

রেগে আক্রান্ত ফলের ওপর ছোট অনিয়মিত দাগ পড়ে

পরবর্তীতে দাগগুলো লম্বা দাগে পরিণত হয় এবং ফলের খোসার নিচের বীজগুলো বাদামি বর্ণের হয়ে যায়

আক্রান্ত ফলের গুণাবলী নষ্ট হয়ে যায় এবং ফলের বাজার মূল্য কমে যায়

প্রতিকার

রোগাক্রান্ত অংশ কেটে পুড়িয়ে ফেলতে হবে

প্রতি লিটার পানিতে . গ্রাম হারে মেনকোজেব বা গ্রাম হারে কার্বান্ডিজম  ছত্রাকনাশক গুলে ১০ দিন অন্তর অন্তর - বার ফলে গাছে ভালোভাবে সেপ্র করতে হবে

নাম

ফল পচা  রোগ

লক্ষণ

রোগের আক্রমণ ফলের বোঁটা থেকে শুরু হয়

প্রথমে বাদামি পরে কালো দাগ দেখা যায়

জীবাণু খোসার গভীরে ফলের শাঁসে  আক্রমণ করে

আক্রান্ত বেশি হলে আম দ্রুত পচে যায়

প্রতিকার

ফল  পারার সময় যাতে  আঘাত না লাগে সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে

গাছে রোগের আক্রমণ হলে  ব্যাভিষ্টিন গ্রাম প্রতি লিটার পানিতে মিশিয়ে স্প্রে করা

ফল  সংগ্রহের পর ৫০ ডিগ্রি সেঃ তাপমাত্রায় মিনিত পানিতে ডুবিয়ে রেখে তুলে নেয়া

নাম

ফল ফেটে যাওয়া

লক্ষণ

এটি সাধারণত পুষ্টি উপাদানের অভাবজনিত কারণে বা মাটিতে রসের তারতম্যের কারণে হয়ে থাকে

ফলের বৃদ্ধির সময় শুকনো আবহাওয়ায় মাটিতে রসের অভাব দেখা দিলে ফলের বৃদ্ধি ব্যাহত হয় এবং ফলের ত্বক শক্ত হয়ে যায়

এরপর হঠাৎ বৃষ্টি হলে মাটিতে রসের আধিক্য ঘটে, ফলে ফলের ভেতরের অংশ দ্রুত গতিতে বৃদ্ধি পায় এতে ভেতরের চাপ সহ্য করতে না পেরে ফলের খোসা ফেটে যায় 

প্রতিকার

ফলধারণের পর থেকে  গাছে ঘন ঘন পানি সেচ দিতে হবে

মাটিতে বোরনজনিত সার যেমন বোরিক এসিড গাছপ্রতি ৪০ গ্রাম হারে মাটিতে প্রয়োগ করতে হবে

  এছাড়া ফলের বৃদ্ধির সময়  প্রতি লিটার পানিতে পাঁচ গ্রাম হারে বোরিক এসিড এর মিশ্রণ ১০ দিন অন্তর অন্তর ফলে গাছে সেপ্র করতে হবে

পোকামাকড় দমনঃ

নাম

ফলছিদ্রকারী পোকা

লক্ষণ

এই প্রজাতির শূঁককীট ফলের ক্ষতি করে থাকে

পরে মূককীটে পরিণত হওয়ার পূর্বে ফলের ত্বকে গোলাকার ছিদ্র করে ফল থেকে বের হয়ে আসে

এই পোকায় আক্রান্ত ফলে মাধ্যমিক সংক্রমণ হিসেবে ছত্রাক ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণ হতে পারে

প্রতিকার

আক্রান্ত ফল গাছ থেকে পেড়ে বা মাটিতে পড়ে থাকা ফল কুড়িয়ে নষ্ট করে ফেলতে হবে

গাছে ফলধারণের পর ফলের বৃদ্ধি শুরু হলে কাপড় বা পলিথিন বা বাটার কাগজ দিয়ে বৃদ্ধিমান ফল ব্যাগিং করে দিলে পোকার আক্রমণ থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে

প্রতি লিটার পানিতে এক মিলিলিটার হারে ম্যালাথিয়ন বা কার্বরিল বা ফস্ফামিডন গ্রুপের কীটনাশক দিয়ে ১৫ দিন অন্তর অন্তর গাছে ফলে সেপ্র করতে হবে

নাম

কাণ্ড ছিদ্রকারী পোকা

লক্ষণ

কাণ্ড ছিদ্রকারী পোকা সাধারণত পরিচর্যাবিহীন গাছে আক্রমণ করে থাকে

এই পোকার শূঁককীট রাতের বেলা কাণ্ড শাখার ছাল ছিদ্র করে ভেতরে প্রবেশ করে এবং ভেতরের অংশ খেতে থাকে

দিনের বেলা ডালের গর্তের মধ্যে এরা লুকিয়ে থাকে বর্জ্য পদার্থ ত্যাগ করে

কাণ্ড বা শাখায় ছোট ছোট ছিদ্র বা বর্জ্য পদার্থ দেখে পোকার আক্রমণ লক্ষ করা যায়

প্রতিকার

গর্তের মধ্যে সরু তার ঢুকিয়ে পোকার কীড়াকে খুঁচিয়ে মারার ব্যবস্থা করতে হবে


গর্ত থেকে পোকার কীড়ার বর্জ্য পদার্থ পরিষ্কার করে গর্তে ইনজেকশনের সিরিঞ্জ বা তুলার সাহায্যে কেরোসিন বা পেট্রোল ঢুকিয়ে কাদা দিয়ে গর্ত বন্ধ করে দিলে পোকা মারা যাবে

নাম

মাছি পোকা

লক্ষণ

মাছি পোকা দারা আক্রান্ত গাছ বাহির থেকে দেখে বুঝা যায় না

পোকার কীড়া বা ম্যাগট ফলের শাঁস খায়ফল কাটলে তার মধ্যে অসংখ্য কীড়া বা ম্যাগট দেখা যায়

আক্রান্ত ফল  সহজেই পচে যায়

প্রতিকার

ফল  পাকার আগেই কাঁচা অবস্থায়  পেড়ে আনা

পোকা যুক্ত ফল গুলো মাটিতে গভীর গর্ত করে পুঁতে ফেলা

বিষ টোপ তৈরি করার জন্য প্রতি ১০০ গ্রাম আম এর রস বা চিটাগুর এর সাথে এক গ্রাম ডিপ্টেরেক্স ৮০ এসপি বা অন্য বালাইনাশক মিশাতে হবে এবং গাছে ঝুলিয়ে দিতে হবে

মাছি পোকার আক্রমন বেশি হলে প্রতি লিটার পানিতে মিলি সনিক্রন মিশিয়ে ১০-১২ অন্তর স্প্রে করা