ডালিয়া -Dahlia

ডালিয়ার জাত :
|
|
ডালিয়ার জাতের শ্রেণী |
ডালিয়ার জাত |
|
1 |
ডেকোরেটিভ ডালিয়া |
অ্যারাবিয়ান নাইট , নিউবাই, এডিনবার্গ, চাইনিজ ল্যানটার্ন, পীস, লিবারেটর |
|
2 |
ডাবল শো ও ফ্যান্সি ডালিয়া |
মডেল , মার্লিন, স্ট্যান্ডার্ড |
|
3 |
পম্পন ডালিয়া |
রোজিয়া, গ্লো, বন্নি , লীও, জীন লিস্টার , |
|
4 |
ক্যাকটাস ডালিয়া |
লিটল মারমেড, অ্যানন্ড্রিস, গ্রেস, ডোরিস ডে, আলবার্ট, কুইন, লিটল ডায়মণ্ড |
|
5 |
মিসিলেনিয়াস ডালিয়া |
ডিসনে ল্যান্ড, জিরাফ , |
|
6 |
সিঙ্গেল ডালিয়া |
ককেট, ফ্রান্সেস, লিবেন সোয়ার্ট |
|
7 |
স্টার ডালিয়া |
হোয়াই স্টার |
|
8 |
এণীমোণ ডালিয়া |
কমেট |
|
9 |
কলারেট ডালিয়া |
লেডী ফেন্ড, স্টারলেট কুইন, অরিওলাইন |
|
10 |
পিওলি ডালিয়া |
বিপ অফ ল্যান্ডাফ |
ডালিয়ার বংশবিস্তার :
·
ফুল সিঙ্গেল বা ডাবল হতে পারে ।
·
সিঙ্গেল ফুলের জনপ্রিয়তা কম কিন্তু চারা উৎপাদন করা হয় বীজের সাহায্যে ।
·
ডাবল জাতীয় ফুলের বেলায় অঙ্গজ পধুতিতে কন্দমূল ব্যবহার করে বংশ বিস্তার করা হয় ।
১। বীজ দ্বারা বংশ বিস্তার :
·
সিঙ্গেল ফুলের চারার বয়স ১ মাস হলে চারা রোপণ করতে হবে ।
·
গাছ হতে বীজ সংগ্রহের ২ সপ্তাহ পর রোপন করতে হবে ।
·
২ দিন পর চারা গজাবে ।
·
বীজ ১ বৎসরের বেশী ভাল থাকেনা ।
·
বীজ গোঁজানোর জন্য ৭৫ ডিগ্রী ফারেনহাইট ভাল।
·
বীজ ৩ সেমি দূরত্বে রোপন করতে হবে ।
২। কন্দ হতে বংশ বিস্তার :
·
সংগ্রহকৃত কন্দ কার্তিক থেকে অগ্রাহায়ন মাসে রোপন করতে হবে
·
কন্দ কেটে রোপণের ক্ষেত্রে প্রতি কন্দে যেন ১ টি চোখ থাকে ।
৩। শাখা কলম থেকে বংশ বিস্তার :
·
প্রতিটি শাখার ১ম পাতা হতে ৮-১০ সেমি ডাল কেটে নিতে হবে ।
·
উপযুক্ত মাটিতে বপন করতে হবে ।
·
শাখা কলমের উপযুক্ত সময় পৌষ – মাঘ মাস ।
·
ডালের কাটা অংশে Seradix B1 হরমোন মাখিয়ে দিলে তারাতারি শিকড় গজাবে ।
·
দোআঁশ মাটি, পাতা পচা ও সারের মাটিতে কলম বসাতে হবে ।
·
সেচ দিতে হবে ।
·
সরাসরি সূর্যের আলো যেন না পরে সেজন্য শেড দিতে হবে ।
·
৭ -১৪ দিনের মধ্যে শিকড় গজাবে ।
ডালিয়ার চাষ পদ্ধতি :
মাটি :
- দোআঁশ মাটি উত্তম
- পরিমিত জৈব পদার্থ থাকবে
- pH : 6.5
জায়গা :
চারা থেকে চারা ৫০-১০০ সেমি
সারি থেকে সারি ৭৫-১০০ সেমি
সারের পরিমান:
নাইট্রোজেন সার বেশী দিলে গাছ বেশী হয় কিন্তু ফুল কম হয় ।
ফসফেট ও পটাশ সার বেশী উপকারী ।
সার প্রয়োগ:
|
সার |
সারের পরিমান(কেজি/শতক) |
|
TSP |
১ কেজি |
|
MP |
.৫ কেজি |
|
ছাই |
৫ কেজি |
|
গোবর/কম্পস্ট সার |
২০ কেজি |
ডালিয়ার পোকামাকড় দমন:
|
নাম |
ডালিয়ার মাকড়/ ক্ষুদ্র মাকড়সা |
|
লক্ষ্মণ |
১। দুই প্রকার মাকড় ডালিয়াকে আক্রমন করে। মাকড় পাতার রস চুষে খায়। এক প্রকার মাকড় গাছের ডগায় কপি পাতা আক্রমন করে। ২। দ্বিতীয় প্রকার মাকড় নিচের দিকে পুরোনো পাতা আক্রমন করে। দুই বিন্দু যুক্ত মাকড় গুলো তাদের ডিম সহ পাতার উল্টো পিঠে সূক্ষ্ম জালের মধ্যে থাকে । সেখানে পাতার রস চুষে পাতাকে ফিকে হলুদ করে দেয়। ৩। সাইক্লোমেন মাকড় ডালিয়ার ডগায় দেখতে পাওয়া যায়। অতি মাত্রায় আক্রান্ত পাতা বাদামি রঙের হয়ে মুষড়ে যায়। আক্রান্ত পাতার কিনারা ভিতরের দিকে গুটিয়ে যায়। |
|
প্রতিকার |
১। প্রতিকার হিসেবে কেলথেন, টোসিস্টক্স, ম্যারাথেন, মাইক্রিথিয়ল, সালফোটক্স, সালফেক্স, কিওভিটথ, সালফেটিক্স বা মিট ৫০৫ মাকড় দমনের জন্য ব্যবহার করা যেতে পারে। ২। ঠান্ডা পানি ছিটিয়ে মাকড় দমন করা যায়। ৩। বাইকাও ১ ব্যবহার করা যেতে পারে। |
|
নাম |
ডালিয়ার জাবপোকা |
|
লক্ষণ |
১। জাব পোকা ডালিয়া পাতা, কুড়ি ও ফুলের রস শোষণ করে যথেষ্ট ক্ষতি করে। এর অনেক গুলি জাত ডালিয়াকে আক্রমন করে। |
|
প্রতিকার |
১। পোকা দমনের জন্য বাইকাও-১ বা সাইফানন প্রয়োগ করা যায়। |
|
নাম |
ডালিয়ার মিলি পেডস |
|
লক্ষণ |
১। এরা রাতের বেলায় খুব সক্রিয় হয়ে ডালিয়ার মূল নষ্ট করে। আক্রান্ত মুলে ছত্রাক রোগ হয়, যার ফলে গাছ সরে যায়। |
|
প্রতিকার |
১। মাটির উপরে সেভিন পাউডার ছিটিয়ে এ পোকা দমন করা যায়। তাছারা মাটিতে ফুরাডান বা যাইমেট ব্যাবহার করে সুফল পাওয়া যায়। গাছ প্রতি ০.৫ গ্রাম দানাদার ঔষধ প্রয়োগ করা যায়। |
|
নাম |
কেঁচো |
|
লক্ষণ |
১। কেঁচো ডালিয়ার নরম মূল ও শিকড় খুব পছন্দ করে। এরা রোগজীবাণু ও ছড়ায়। |
|
প্রতিকার |
১। মহুয়ার খইল, পটাসিয়াম পার ম্যাগেনটের দ্রবন দিয়ে কেঁচো দমন করা যায়। ১ লিটার পানি ১০০ গ্রাম মহুয়ার খইল ৬ ঘন্টা ভিজিয়ে রাখতে হবে। তারপর আরো ৪ লিটার পানি মিশিয়ে ৫০ বর্গমিটার জায়গায় প্রয়োগ করতে হবে। ২। অথবা ১ লিটার পানিতে ১ গ্রাম পটাসিয়াম পারমেঙ্গানেট মিশিয়ে ঝাঝরির সাহায্যে মাটিতে প্রয়োগ করে কেঁচো দূর করা যায়। |
|
নাম |
থ্রিপ্স |
|
লক্ষণ |
১। গাছ ও ফুল আক্রমন করে। |
|
প্রতিকার |
১। পোকা দমনের জন্য ডায়াজন ৬০ ইসি/ সাইফানন ৫৭ ইসি স্প্রে করতে হবে। |
ডালিয়ার রোগবালাই দমন:
|
নাম |
ডালিয়া গাছ এর মোজইক রোগ |
|
লক্ষণ |
১। আক্রান্ত গাছের পাতা হলদে-সবুজ হয় এবং গাছ বেঁটে হয়ে যায়। ২। ক্রমে ক্রমে আক্রান্ত পাতা ও ডাঁটা কুঞ্চিত হয়ে বিকৃত হয়ে থাকে। আক্রান্ত গাছে ফুল হয়না। |
|
প্রতিকার |
১। ভাইরাসঘটিত রোগের কোন ঔষধ নাই। সুতরাং রোগাক্রান্ত গাছগুলি সঙ্গে সঙ্গে তুলে পুড়িয়ে ফেলতে হবে। জাবপোকা, থ্রিপস, জসিড ইত্যাদি পোকা দ্বারা রোগের বিস্তার হয়। তাই সুস্থ গাছে নিয়মিত ডিমেক্রন ১০০ ই.সি.- র ০.০৫ শতাংশ দ্রবণ প্রতি ১৫ দিন অন্তর সেপ্র করলে এইসব পোকা দমন করা যায়। ২। টবে বা জমিতে চারা বসানোর সময় প্রতি গাছের গোড়ায় ৪/৫ গ্রাম হিসাবে থাইমেট-১০জি প্রয়োগ করলে, এইসব কীটশত্রুর উপদ্রব হয় না। |
|
নাম |
ডালিয়া গাছ ভুসারোগ ছত্রাকঘটিত রোগ |
|
লক্ষণ |
১। ভূসা রোগে আক্রান্ত গাছের পাতার উভয়দিকে হলুদ রঙের দাগ দেখা যায়। ২। রোগাক্রান্ত মূল পচে নষ্ট হয়ে যায়। |
|
প্রতিকার |
১। ভূসা রোগ দমনের জন্য ০.৩ শতাংশ সেপ্র দ্রবণ অথবা ডায়াথেন এম-৪৫ এর ০.২৫ শতাংশ সেপ্র দ্রবণ (প্রতি ১০০ বর্গমিটারে ৭ লিটার দ্রবণ) সেপ্র করতে হয়। ২। মূল বা কন্দ পচন রোগ দমনের জন্য গাছের গোড়া ব্রাসিকল-৭৫ অথবা ক্যাপটান-৭৫ এর ০.৩ শতাংশ দ্রবণ দ্বারা ভিজিয়ে দিতে হবে। ৩। শুষ্ক বালিতে ব্রাসিকল মিশ্রিত করে ডালিয়া মূল সংরক্ষণ করতে হবে। |
|
নাম |
ডালিয়া মূল মুকুট স্ফীতি রোগে |
|
লক্ষণ |
১। আক্রান্ত মূল হতে ফুলকপির পাতার মত অনেকগুলি নিষ্ফলা শাখা বের হয়। |
|
প্রতিকার |
১। আক্রান্ত মূল তুলে ফেলতে হবে এবং জমিতে চুন মিশিয়ে মাটি শোধন করতে হবে। |
|
নাম |
পাউডারি মিলডিউ ছত্রাক রোগ |
|
লক্ষণ |
১। এ রোগে গাছের কচি ডালে ও পাতায় গোলাকার ছোট ছোট দাগ পড়ে। দাগ গুলো পড়ে বড় হয় । আক্রান্ত পাতায় পাউডারের মতো বস্তু লেগে থাকে। ২। আক্রান্ত পাতা সাদা পাউডারের মতো পদার্থে চেয়ে যায় । উষ্ণ আদ্র আবহাওয়ায় এ রোগ ব্যাপক ভাবে দেখা যায়। |
|
প্রতিকার |
১। আক্রান্ত গাছ তুলে ফেলতে হবে বা কেটে পুড়িয়ে ফেলতে হবে। ২। প্রতি লিটার পানিতে দুই গ্রাম থিওভিট বা ৮০% সালফার মিশিয়ে ১০-১২ দিন পর পর ২-৩ বার প্রয়োগ করতে হবে। ৩। এ রোগ দমনের জন্য ডাইথেন এম-৪৫, বা মাইক্রথিওন স্পেশাল বা সালফোটক্স ছিটানো যেতে পারে। |
|
নাম |
ড্যাম্পিংঅফ |
|
লক্ষণ |
১। এ রোগে ডালিয়ার কাটিং শিকড় আসার আগে কিংবা পড়ে পচে যায়। বীজের কচি চারাও নেতিয়ে পড়ে। |
|
প্রতিকার |
১। এ রোগ প্রতিরোধ বা প্রতিকারের জন্য বালি, মাটি শোধন করে চারা লাগাতে হবে। আক্রান্ত পাতায় চেশান্ট কম্পাউন্ড স্প্রে করা যেতে পারে। ২। ক্যাফটাফ ছিটিয়েও সুফল পাওয়া যায়। |
|
নাম |
ডালিয়ার কান্ড পচা রোগ ছত্রাক রোগ |
|
লক্ষণ |
১। কান্ড পচা রোগে গাছের গোড়ায় প্রথমে পানি বসা দাগ দেখা যায়। ২। ছত্রাকের আক্রমন এ গাছের ভাস্কুলার টিস্যুর কাজ ব্যাহত হওয়ায় গাছ হঠাৎ ঢলে পড়ে ও মারা যায়। |
|
প্রতিকার |
১। রোগাক্রান্ত গাছ বাগান বা টব থেকে ধ্বংস করতে হবে। ২। বাগান বা টবে মাটির উপর খড়কুটো রেখে পোড়ালে মাটিবাহিত ছত্রাকগুলোর সংখ্যা বৃদ্ধির কাজ ব্যাহত হয়। ৩। মাটি শোধন করে নিতে হবে। প্রতি লিটার পানিতে ৪ গ্রাম হারে কপার অক্সিক্লোরাইড মিশিয়ে টবের/ বাগানের মাটিতে প্রয়োগ করে মাটি শোধন করতে হবে। |
ফুল তোলা ও বাজারজাতকরণ :
·
বিকেল বেলা ফুল সংগ্রহ করতে হবে ।
·
ফুল ফোটার আগেই কাচি দিয়ে বোটা সহ সংগ্রহ করতে হবে কিন্তু গাছ সহ কাটা ঠিক না ।
·
দূরে বাজারজাতকরণ এর ক্ষেত্রে ফুলে পানি ছিটিয়ে কালো পলিথিনে মুড়ে বাজারজাত করতে হবে ।
কন্দ তোলা ও সংরক্ষণ :
·
চারা লাগানোর ৪ মাসের মধ্যে কন্দ হয় ।
·
১০-১২ সপ্তাহের মধ্যে ফুল আসে ।
·
ফুল সংগ্রহের পর সার প্রয়োগ বন্ধ করে দিতে হবে, মূল কান্দ অক্ষত রেখে গাছ তোলতে হবে এবং ঠাণ্ডা, শুকনো স্থানে সংরক্ষণ করতে হবে ।
·
ভাঙ্গা, থেঁতলানো, ও কাটা অংশে গন্ধক লাগিয়ে এবং ছত্রাকনাশক লাগিয়ে সংরক্ষণ করতে হবে ।
মন্তব্যঃ এই ফুলটা দেখতে অনেকটা গোলাপ ফুলের মতই সুন্দর।