সূর্যমুখী – Sunflower

জাত:
কিরণী (ডি এস-১).
·
গাছের উচ্চতা ৯০-১১০ সেমি।
·
বীজ লম্বা ও চ্যাপ্টা।
·
হাজার বীজের ওজন ৬০-৬৫ গ্রাম।
জমি তৈরি: সূর্যমুখীর জমি গভীরভাবে চাষ দিতে হয়। জমি ৪-৫ বার আড়াআড়ি চাষ ও মই দিয়ে মাটি ঝুরঝুরে করে নিতে হবে।
বপনের সময় ও ফলনঃ
১.ভাদ্র-আশ্বিন (মধ্য-আগস্ট থেকে মধ্য-অক্টোবর) মাসে বপন করলে ফসল সংগ্রহ করতে ৯০-১০০ দিন সময় লাগে। প্রতি হেক্টরে ফলন পাওয়া যায় ১.৩-১.৫ টন।
২.কার্তিক-অগ্রহায়ণ মাসে (মধ্য-অক্টোবর থেকে মধ্য-ডিসেম্বর) মাসে বপন করলে ১০০-১১০ দিন সময় লাগে।প্রতি হেক্টরে ফলন পাওয়া যায় ১.৬-১.৮ টন।
দেশের উত্তর ও পশ্চিম অঞ্চলে তাপমাত্রা ১৫ ডিগ্রী সে. এর নিচে হলে ১০-১২ দিন পরে বীজ বপন করতে হয়। খরিপ-১ মৌসুমে অর্থাৎ জ্যৈষ্ঠ (মধ্য-এপ্রিল থেকে মধ্য-মে) মাসেও এর চাষ করা যায়।
সাধারণত বপনের সময়:
সূর্যমুখী সারা বছর চাষ করা যায়।তবে অগ্রহায়ণ মাসে (মধ্য-নভেম্বর থেকে মধ্য-ডিসেম্বর) চাষ করলে ভাল ফলন পাওয়া যায়।দেশের উত্তর ও পশ্চিম অঞ্চলে তাপমাত্রা ১৫ ডিগ্রী সে. এর নিচে হলে ১০-১২ দিন পর বীজ বপন করা উচিত। খরিফ-১ মৌসুমে অর্থাৎ জ্যৈষ্ঠ (মধ্য-এপ্রিল থেকে মধ্য-মে) মাসেও এর চাষ করা যায়।
বপন পদ্ধতি ও বীজের হার:
সূর্যমুখীর বীজ সারিতে বুনতে হয়।সারি থেকে সারির দূরত্ব ৫০ সেমি এবং সারিতে গাছ থেকে গাছের দূরত্ব ২৫ সেমি রাখতে হয়।এভাবে বীজ বপন করলে হেক্টর প্রতি ৮-১০ কেজি বীজের প্রয়োজন হয়।
সার প্রয়োগ:
|
সারের নাম |
সারের পরিমাণ/হেক্টর |
|
ইউরিয়া |
১৮০-২০০ কেজি |
|
টিএসপি |
১৫০-২০০ কেজি |
|
এমপি |
১২০-১৫০ কেজি |
|
জিপসাম |
১২০-১৭০ কেজি |
|
জিঙ্ক সালফেট |
৮-১০ কেজি |
|
বরিক এসিড |
১০-১২ কেজি |
|
ম্যাগনেসিয়াম সালফেট |
৮০-১০০ কেজি |
ম্যাগনেসিয়াম সালফেট রংপুর, দিনাজপুর, পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁ, বগুড়া, জয়পুরহাট, নওগাঁ ও রাজশাহী এলাকার জন্য।
প্রয়োগ পদ্ধতি:
ইউরিয়া সারের অর্ধেক এবং বাকি সব সার শেষ চাষের সময় ছিটিয়ে মাটির সাথে মিশিয়ে দিতে হবে।বাকি অর্ধেক ইউরিয়া ২ ভাগ করে প্রথম চারা গজানোর ২০-২৫ দিন পর এবং দ্বিতীয় ভাগ ৪০-৪৫ দিন পর বা ফুল ফোটার পূর্বে প্রয়োগ করতে হবে।
সেচ প্রদান:
সূর্যমুখীর ফলন বেশি পেতে হলে কয়েকবার পানি সেচ দিতে হবে।প্রথম সেচ বীজ বপনের ৩০ দিন পর (গাছে ফুল আসার আগে) ,দ্বিতীয় সেচ বীজ বপনের ৫০ দিন পর(পুষ্পস্তবক তৈরির সময়) এবং তৃতীয় সেচ বীজ বপনের ৭০ দিন পর (বীজ পুষ্ট হবার আগে) দিতে হবে।
সূর্যমুখীর হেক্টর প্রতি ফলন ১.৭-১.৯ টন।
সংগ্রহ: বপন থেকে পরিপক্ক হওয়া পর্যন্ত ৯০-১১০ দিন সময় লাগে।
রোগবালাই দমন:
|
নাম |
পাতা ঝলসানো রোগ |
|
লক্ষণ |
১.প্রথমে পাতায় ধূসর বা বাদামি বর্ণের দাগ পড়ে। ২. পরে দাগ মিশে গিয়ে বড় দাগের সৃষ্টি হয়। ৩. অবশেষে সম্পূর্ণ পাতা ঝলসে যায়। |
|
প্রতিকার |
১.রোগ সহনশীল কিরণী জাত চাষ করতে হবে। ২. ফসল কাটার পর গাছের পরিত্যক্ত অংশ পুড়িয়ে ফেলতে হবে। ৩. রোভরাল-৫০ ডব্লিউ পি (২% হারে) পানির সাথে মিশিয়ে ১০ দিন পর পর ২-৩ বার জমিতে প্রয়োগ করতে হবে। |
|
নাম |
শিকড় পচা রোগ |
|
লক্ষণ |
১. আক্রান্ত গাছের গোড়া সাদা তুলার মত ছত্রাকের মাইসেলিয়াম এবং গোলাকার দানার মত স্কেলেরোশিয়াম দেখা যায়। ২. প্রথমে গাছ কিছুটা নেতিয়ে পড়ে। ৩. কয়েক দিনের মধ্যে সমস্ত গাছ ঢলে পড়ে ও শুকিয়ে মারা যায়। |
|
প্রতিকার |
১. ভিটাভেক্স-২০০ এর সাহায্যে মাটি শোধন। ২. জমিতে প্লাবন সেচ দেওয়া। ৩. পর্যায়ক্রমিক ভাবে ফসলের চাষ করা। |
মন্তব্যঃ এই ফুলটা দেখতে অনেকটা জারবেরা ফুলের মতই।