জারবেরা ফুল পরিচিতি, জারবেরার জাত | রোগ-পোকামাকড় দমন এবং ব্যবস্থাপনা

Gerbera - জারবেরা

Gerbera - জারবেরা


পরিচিতিঃ

জারবেরা এ্যাসটারেসী পরিবারভুক্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ বানিজ্যিক ফুল জার্র্মান পরিবেশবিদ ট্রগোট জার্বার  এর নামানুসারে  ফুলটির নামকরন করা হয়েছে এটি আন্তর্জাতিক ফুল বানিজ্যে কাট ফ্লাওয়ার হিসেবে উল্লেখযোগ্য ১০টি ফুলের মধ্যে অন্যতম কাট ফ্লাওয়ারের জন্য বেশী দিন ফুলদানীতে সতেজ রাখতে জারবেরার জুড়ি নেই

শ্রেণী বিন্যাস জাত:

জারবেরার অসংখ্য জাত রয়েছে ফুলের গঠন, উৎপাদনের সময়, আকার - আকৃতি ইত্যাদির উপর ভিত্তি  করে জারবেরাকে নিম্নোক্তভাবে শ্রেণী বিন্যাস করা হয়েছে

·        স্ট্যান্ডার্ড

·        মিনি

·        স্ট্যান্ডার্ড স্পাইডার

·        মিনি স্পাইডার

উপরে উল্লেখিত শ্রেণীগুলির মধ্যে নিম্নোক্ত জাতসমূহ বিশেষভাবে সমাদৃতঃ

স্ট্যান্ডার্ড

·        লালঃ  ক্যারাম্বোল, ডাষ্টি, রেড এক্সপ্লোশান, রুবী রেড

·        পিংকঃ   এমারন, চারমান্ডার, ইনগ্রীড, জাসকা, রোজালিন

·        হলুদঃ   কাবানা, রুনা, লিওনেলা, নাডজা, ইউরেনাস

·        সাদাঃ   ডালমা, ডেটি, গ্লোরিয়া, স্নোফ্লেইক

·        কমলাঃ   আলবার্টো, বগর, করিন্স, গোলিয়াথ, মিসটিক

·        অন্যান্যঃ এইডা, এসট্রেলা, মনেট, নেভাডা (ক্রিম)

মিনি

·        রেডি(সাদা),

·        ফিনলে(হলুদ),

·        পিরেলী(কমলা),

·        রিজেনসি(গোলাপী),

·        সিটি(লাল)

স্ট্যান্ডার্ড স্পাইডার

·        আলাস্কা(সাদা)

·        আরিয়ামার(গোলাপী),

·        টমা(কমলা),

·        ইয়েলো ব্রাশ(হলূদ)

মিনি স্পাইডার

·        ক্রিসপি(সাদা),

·        ক্রেজি(হলুদ),

·        ডার্ক স্পিনার(লাল),

·        হিপ্পি(লাল),

·        জিপ্পী(কমলা)

আবহাওয়া

উজ্জ্বল সূর্যালোক জারবেরা গাছের বৃদ্ধি অধিক সময় ধরে ফুল উৎপাদনে সাহায্য করে গ্রীষ্মকাল ছাড়া অন্যান্য সময় পূর্ণ সূর্যালোক জারবেরা চাষের জন্য উত্তম প্রয়োজনের অতিরিক্ত ছায়া প্রদান করলে পাতা হালকা সবুজ বর্ণ ধারণ করে এবং ফুলের দন্ড খাট শক্ত হয় সাধারণতঃ শীতকালে গাছে খুব তাড়াতাড়ি ফুল আসে অন্যদিকে গ্রীষ্মকালে গাছে ফুলধারণ বিলম্বিত হয় গ্রীন হাউজে উৎপাদনের ক্ষেত্রে আর্দ্রতা বেশী থাকলে বট্রাইটিস রোগের প্রাদুর্ভব দেখা দিতে পারে জন্য গ্রীন হাউজে জারবেরা উৎপাদনের ক্ষেত্রে দিনে ৭০% এবং রাত্রে ৮৫% আর্দ্রতা রাখা উচিত গ্রীণ হাউসে বাতাস পরিসঞ্চালন এবং ভেন্টিলেশন থাকা আবশ্যক

মাটি নির্বাচনঃ

দ্রুত পানি নিষ্কাশনযোগ্য হালকা দো- আঁশ অথবা বেলে দো- আঁশ মাটি জারবেরা চাষের জন্য উত্তম মাটির পি.এইচ. .- . জারবেরা চাষের জন্য উপযোগী করে নিতে হবে

বংশবৃদ্ধি

যৌন

বীজ থেকে চারা উৎপা নে সময় বেশী লাগে সাধারণতঃ সংকরায়নের মাধ্যমে নতুন জাত উদ্ভাবনের জন্য বীজ থেকে চারা উৎপাদন করা হয়

অযৌন

অযৌন পদ্ধতিতে ১টি বা ২টি চারা মূল গাছের গুচ্ছ থেকে বিভাজনের মাধদ্যমে রোপণ করে জারবেরার বংশ বিস্তার করা হয় ছাড়া কাটিংয়ের মাধ্যমে চারা উৎপাদন করা যায় জন্য বয়স্ক গাছে পানি সরবরাহ বন্ধ করে দেয়া হয় এবং সাথে সাথে পাতা ছেটে দেয়া হয়ফলে কয়েকদিনের মধ্যে গাছে প্রচুর কুঁড়ির সৃষ্টি হয় পরে কুঁড়িগুলি সাবধানে কেটে নিয়ে শিকড় উৎপাদনের জন্য লাগানো হয়

টিস্যু কালচার

টিস্যু কালচারের মাধ্যমে উৎপাদিত চারা পোকা- মাকড় রোগ- বালাই মুক্ত এবং বয়স, আকার আকৃতিতে সমান থাকে বিধায় ভালমানের ফুল পাওয়া যায়

সার প্রয়োগ

সারের নাম

সারের পরিমাণ (প্রতি ১০ বর্গ মিটারের জন্য)

পঁচা জৈব সার

৬০ কেজি

ইউরিয়া

.১৫ কেজি

ট্রিপর সুপার ফসফেট

. কেজি

মিউরেট অব পটাশ

৫০০ গ্রাম

ম্যাগনেশিয়াম সালফেট

৫০০ গ্রাম

চারা লাগানো

জমিতে ৩০-৪৫ সে.মি উচু এবং -. মি. চওড়া বেড তৈরি করতে হবে আন্তঃ পরিচর্যা এবং অন্যান্য কাজের সুবিধার জন্য দুই বেডের মাঝ ৫০ সে.মি জায়গা খালি রাখতে হবে বেডের মাটি কালো পলিথিন দিয়ে - সপ্তাহ ঢেকে রেখে শোধন করে নেয়া ভাল তাই জাত ভেদে সারি থেকে সারির দূরত্ব ২০-৩০ সে: মি: এবং সারিতে চারা থেকে চারার দূরত্ব ২০-৩০ সে: মি: দেয়া হয় সকালে অথবা বিকেলে বেডে চারা লাগানো উচিৎ চারা লাগানোর পর পরই ঝাঝরি দিয়ে হালকা সেচ দিতে হবে

পানি সেচ

সেচের পর মাটি অবশ্যই মালচিং করতে হবে এর ফলে মাটি বাহিত রোগের আক্রমন কম হবে এবং গাছে ফুলের পরিমান বেশী হবে পানির অভাবে গাছ ঢলে পড়লে পরবর্তীতে ফুলের দন্ড চোট হয় এবং ফুলের মান কমে যায় পানি সেচের সময় খেয়াল রাখতে হবে যেন অতিরিক্ত পানি বেডে জমে না থাকে সেচের পানি বেডে জমে থাকলে মাটি বাহিত রোগের আক্রমনে গাছ পঁচে যায় এবং মারাত্মক ক্ষতি সাধিত হয় সাধারণতঃ শুষ্ক মৌসুমে সেচের পরিমান বেশী এবং বর্ষা মৌসুমে সেচের পরিমান কম লাগে

ফুল সংগ্রহঃ

ফুল পূর্ণ প্রস্ফুটিত ডিস্কে দ্বিতীয় স্তরের ফুলে পরাগরেনু দেখ দিলে সংগ্রহের উপযুক্ত হয় ফুল দন্ডের গোড়া ধরে আস্তে করে ঘুরিয়ে গাছ থেকে ফুল সংগ্রহ করা হয় চাকু দিয়ে জারবেরার ফুল কেটে সংগ্রহ না করাই ভাল ফুল সংগ্রহের সময় ফুল দন্ড যতদূর সম্ভব লম্বা থাকা ভাল সংগ্রহের সাথে সাথে ফুল দন্ডের গোড়া পানিতে ডুবিয়ে রাখতে হবে

ফলন

সাধারণতঃ জাত চাষাবাভেদে ফলন কম বেশী হয়ে হয় গ্রীনহাউজে প্রতি বর্গ মিটারে গড়ে ২৫০ টি এবং হেক্টরে ২৫,০০,০০০টি ফল উৎপাদন করা যায় মাঠে চাষাবাদের ক্ষেত্রে উৎপাদন প্রায় অর্ধেক কমে যেতে পারে এবং ফুলের মানও হ্রাস পায়

পোকামাকড় দমন:

নাম

সাদা মাছি

লক্ষণ

গরম শুকনা সুমে সাদা মাছি গাছের পাতা ফুলের রস চুষে মারাত্মক ক্ষতি করে

প্রতিকার

মেটাসিসটক্স (.%) অথবা ইন্ডোসালফান (.%) ব্যবহার করে মাছ পোকা দমন করা যায়

নাম

পাতা সুড়ংকারী পোকা

লক্ষণ

পোকার কীড়া পাতায় সুড়ং করে সবুজ অংশ খেয়ে ফেলে

আক্রান্ত পাতা কুকড়ে যায় এবং সূর্যের আলোর বিপরীতে ধরলে জারের মত অসংখ্য সুড়ং দেখা যায়

প্রতিকার

আক্রান্ত পাতা সংগ্রহ করে ধ্বংস করে ফেলতে হবে

ফসলে পোকার আক্রমনের লক্ষন দেখা দিলে রগর (.%) অথবা পারমেথ্রিন (.%) সেপ্র করতে হবে

নাম

জাব পোকা

লক্ষণ

জাব পোকা জারবেরার কচি পাতা ফুলের কুঁড়ির রস চুষে খায়

জাবপোকার আক্রমনে পাতা কুকড়ে যায় এবং ছত্রাক আক্রমণ করে

প্রতিকার

মেটাসিসটক্স (.%) অথবা মেরিক ( Merrick) (.%) হারে প্রয়োগ করে পোকা দমন করা যায়

নাম

মাকড় বা মাইট

লক্ষণ

মাকড়ের আক্রমণে কচি পাতার আকৃতি নষ্ট হয় এবং শেষে পাতা শুকিয়ে যায়

প্রতিকার

নুভক্রন (.%) অথবা ক্যালথেন (.%) সেপ্রর মাধ্যমে মাকড় দমন করা যায়

নাম

থ্রিপস

লক্ষণ

অতি ক্ষুদ্র পোকা ফুলের কচি অংশ খেয়ে ফুল বিবর্ণ করে ফেলে

আক্রমণ তীব্র হলে অনেক সময় ফুলের কুঁড়ি ফোটে না অথবা ফোটলেও তা অস্বাভাবিক আকৃতির হয়

প্রতিকার

ম্যালাথিয়ন (.%) অথবা ডায়াজিনন (.%) নিয়মিত সেপ্র করে পোকার আক্রমণ থেকে রক্ষা পাওয়া যায়

রোগবালাই দমন:

নাম

স্পটেড উইল্ট

লক্ষণ

ভাইরাসের আক্রমণে পাতায় হলুদাভ বাদামী রং ধারণ করে

প্রতিকার

রোগ দমনে ফুরাডান প্রয়োগ করতে হবে

আক্রান্ত গাছ তুলে ধ্বংস করে ফেলতে হবে

নাম

গোড়া পঁচা রোগ

লক্ষণ

গাছের শিকরে পচন ধরে

গাছ নেতিয়ে পড়ে এবং মরে যায়

প্রতিকার

কপার অক্সি - ক্লোরাইড ( .%) অথবা ডায়থেন এম -৪৫ ( .%) সেপ্র করে রোগ দমন করা যায়

নাম

ক্রাউন রট

লক্ষণ

মাটি বাহিত ছত্রাক ফাইটোপথোরা ক্রিপটোজেনা রোগের জন্য দায়ী গাছের পাতা কালো বর্ণ ধারণ করে এবং আস্তে আস্তে ঢলে পড়ে

প্রতিকার

রোগ প্রতিরোধী জাত ব্যবহার করা,

বেডে প্রয়োজনের অতিরিক্ত সেচের পানি না দেয়া

গাছের মুকুট বা পাতা যেন মাটির সংস্পর্শে না আসে সেদিকে খেয়াল রাখা

সেচের পর বেডের মাটি মালচিং করে দেয়া এবং

আক্রান্ত গাছের গোড়ার মাটি সরিয়ে .% বিনোমিল অথবা রিডোমিল- এম, জেড প্রযোগ করে রোগ দমন করা যায়

নাম

পাউডারি মিলডিউ

লক্ষণ

পাতার উপর ছোট, বৃত্তাকার, সাদাটে দাগ প্রদর্শিত হবে

প্রচন্ডভাবে সংক্রমিত পাতা হলুদ হয়ে এবং পরে শুষ্ক এবং বাদামী হয়ে যায়

প্রতিকার

যে কোন সিস্টেমিক ছত্রাকনাশক যেমন ব্যাভিষ্টিন, রিডোমিল অথবা বিনোমিল .% হারে গাছে স্প্রে করে রোগ দমন করা যায়


মন্তব্যঃ এই ফুলটা দেখতে অনেকটা সূর্যমুখী ফুলের মতই সুন্দর।